Breaking
7 Jul 2026, Tue

লরির চাকায় পিষ্ট হয়ে মৃত্যু হল মায়ের, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মেয়ে

,জেএনএফ,লোধাশুলি : মেয়ের হাত ধরে রাস্তা পর হচ্ছিলেন অসুস্থ মা । হঠাৎ করেই লরির ধাক্কায় চাকায় পিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় মায়ের। ঘটনায় লরির চাকায় পিষ্ট হয়ে কোমর থেকে গুড়িয়ে যায় মেয়ের দুই পা। মঙ্গলবার সকালে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনাটি ঘটে ঝাড়গ্রাম থানার অন্তর্গত খড়গপুর-চিচিড়া ৪৯ নম্বর জাতীয় সড়কের লোধাশুলির মোড়ে। পুলিশ জানিয়েছেন, মৃত মহিলার নাম মৃণালিনী মাইতি (৫২)। মৃত মহিলার মেয়ে ঝর্ণা মাইতি (২৬) চিকিৎসাধীন রয়েছেন ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। তাঁদের বাড়ি ঝাড়খন্ড রাজ্যের পূর্ব সিংভূম জেলার গ্রাম গামারিয়া এলাকায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতা থেকে মায়ের চিকিৎসা করে মা ও মেয়ে বাসে করে ফিরছিলেন । লোধাশুলি মোড়ে বাস থেকে নেমে অন্য বাস ধরে ঝাড়গ্রামে যাওয়ার কথা ছিল তাঁদের। সেখান থেকে ট্রেন ধরে বাড়ি ফিরতেন তাঁরা ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, লোধাশুলির মোড়ে বাস থেকে নেমে রাস্তা পার হচ্ছিলেন মা ও মেয়ে। সেই সময় ঝাড়গ্রামগামী একটি মাটি বোঝাই লরি তাঁদের ধাক্কা দেয়। লরির চাকায় পিষ্ট হয়ে যায় মা এবং কিছুটা ধরে ছিটকে পড়ে মেয়ে। মেয়ের কোমর থেকে পায়ের নিচ দিয়ে লরির চাকা চলে যায় বলে দাবি। ঘটনার পরেই লোধাশুলি এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এলাকার মানুষজন ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকায় প্রশ্ন তুলে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ঝাড়গ্রাম থানার আইসি উদয় শঙ্কর ঘোষ সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়। দুর্ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই ঝর্ণা কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে মৃণালিনী দেবীর দেহ উদ্ধার করে ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ মর্গে পাঠানো হয়। এলাকার বাসিন্দা অক্ষয় মাহাতো বলেন,’লোধাশুলির মতো ব্যস্ততম জায়গায় বাসে উঠানামার জন্য কোন বাসের স্ট্যান্ড নেই । ছ-সাত জন সিভিক ও ট্রাফিক পুলিশের লোক থাকলেও তাঁরা ব্রিজ ও গাছের তলায় বসে সময় কাটায়। গাড়ি চলাচলের ক্ষেত্রে কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। এই ব্যস্ততম জায়গায় বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চলাচল করে। রাস্তা পারাপার করার সময় বেপরোয়া একটি লরির ধাক্কায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটলো। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশের উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত’ ।

দুর্ঘটনার পরেই ঝাড়গ্রাম থানার পুলিশ ঘাতক লরিটিকে আটক করে। লরির চালক ঘটনার পলাতক বলে জানা গিয়েছে। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন,’ ঘটনার পরেই লরিটিতে আটক করা হয়েছে। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে ‘।

Developed by