Breaking
16 Jul 2026, Thu

কংসাবতী নদীর জল বাড়তেই বিচ্ছিন্ন হোলো দুই জেলা মেদিনীপুর-ঝাড়গ্রাম, যোগাযোগ দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ

অরূপ কুমার মাজী, ঝাড়গ্রাম : টানা বৃষ্টির জেরে বাড়লো কংসাবতী নদীর জল স্তর, যার ফলে ডুবে গেল আমদই কঙ্কাবতী ফেরিঘাটের রাস্তা সহ বাঁশের সাঁকো । যার জেরে যাতায়াতের সমস্যায় পড়েছে সাধারণ মানুষজন।

ঝাড়গ্রাম এবং মেদিনীপুর এই দুই জেলার সংযোগ স্থাপন করেছিল আমদই-কনকাবতী ফেরিঘাটের এই বাঁশের সেতু। এই সাঁকোর উপর ভরসা করেই সাধারণ মানুষজন ঝাড়গ্রাম থেকে মেদিনীপুর এবং মেদিনীপুর থেকে ঝাড়গ্রাম জেলায় যাতায়াত করতে পারত। কিন্তু টানা বৃষ্টির জেরে বাসের সাঁকো জলের তলায় চলে যাওয়ায় যাতায়াতের সমস্যায় পড়েছে সাধারণ মানুষ জন। যদিও সকাল থেকে নৌকা চালানোর ব্যবস্থা করেছে ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষ কিন্তু নৌকা চালানোর জন্য যে পরিমাণ জলের প্রয়োজন সে পরিমাণ জল নদীতে না থাকায় তাতেও কিছুটা বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষকে।

ঝাড়গ্রাম ব্লকের পাঁচ থেকে সাতটি গ্রাম পঞ্চায়েতের মানুষজন, এছাড়া মেদিনীপুর গ্রামীণের দুই থেকে তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় দুই থেকে তিন হাজার মানুষজন এই বাঁশের সাঁকোর উপর দিয়েই প্রত্যেকদিন যাতায়াত করে থাকে। মেদিনীপুর বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, অফিস আদালত, হাসপাতাল অল্প সময়ে পৌঁছানোর একমাত্র সম্বল ছিল এই বাসের সেতু। এই বাঁশের সেতু দিয়ে মাত্র 10 কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেই ঝাড়গ্রাম থেকে মেদিনীপুরে পৌঁছে যাওয়া যায়। অপরদিকে ৪৯ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে মেদিনীপুর পৌঁছাতে ৩০ থেকে ৩২ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়। কিন্তু টানা বৃষ্টির জেরে এই বাঁশের সাঁকো ডুবে যাওয়ায় কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে নিত্যযাত্রীদের।

প্রত্যেক বছর ঝাড়গ্রাম জেলা পরিষদ থেকে এই ফেরাঘাটের বরাত দেওয়ার জন্য টেন্ডার ডাকা হয়, টেন্ডারী যে বেশি টাকা দেয় তার হাতেই যায় এই ফেরিঘাটের ভার। বর্তমানে ৭৩ লক্ষ কুড়ি হাজার টাকায় বিনিময়ে এক ব্যক্তিকে এই ফেরি ঘাটের বরাত দেওয়া হয়েছে। যদিও এই বরাত আগে এক বছরের জন্য দেওয়া হতো কিন্তু বর্তমানে তা তিন বছরের জন্য দেওয়া হয়েছে। এবং প্রতি বছর বরাত পাওয়া অংকের থেকে দশ শতাংশ হারে টাকা ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষকে রাজস্ব খাতে জমা করতে হবে বলেও জানিয়েছে জেলা পরিষদ। সাধারণ মানুষ জন এই ফেরিঘাটটির উপরে দীর্ঘদিন ধরে কংক্রিটের সেতুর দাবি জানিয়া আসছেন। কিন্তু সেই দাবী পূরণ এখনো পর্যন্ত হয়নি। ভোট আসে ভোট যায় রাজনৈতিক দলের প্রচারের অঙ্গ হিসেবেই রয়ে যায় আমদই কনকাবতী ফেরিঘাটে কংক্রিটের সেতু নির্মাণের প্রসঙ্গ। আর বৃষ্টি হলেই বর্ষার তিন থেকে চার মাস এভাবেই জল যন্ত্রণার শিকার হতে হয় সাধারণ মানুষজনকে।

অরূপ সিট নামে এক নিত্যযাত্রী বলেন” আমাকে প্রত্যেকদিন আমার নিজের কাজের জন্য অফিসে যেতে হয় কিন্তু বর্ষার সময় জল বেড়ে গেলে এই বাঁশের সাকো ডুবে যায় এবং নৌকা চলাচল করে তাতে সময় অনেক বেশি লাগে এবং আমাকেও আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে ফেরি ঘাটে আসতে হয়। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। আমার বাড়ি থেকে ঘুরে মেদিনীপুর পৌঁছানো সম্ভব নয়। দীর্ঘদিন ধরে এখানে আমরা কংক্রিটের সেতুর দাবি জানিয়ে আসছি কবে হবে তাও আমরা জানিনা।

Developed by